কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি (দ্বিতীয় অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি — মাধ্যমিক - কৃষিশিক্ষা | NCTB BOOK
6.6k
Summary

কৃষি প্রযুক্তির সংজ্ঞা এবং পরিস্থিতি:

কৃষি প্রযুক্তি মানে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ধারণা, পদ্ধতি, যন্ত্র বা উপকরণ। কৃষির বিভিন্ন শাখার জন্য আলাদা প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে। কিছু প্রযুক্তি প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার কিছু সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভাবিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, লাঙল-জোয়াল এখনো চলছে, তবে নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত মালা এখন স্থান ছাড়ছে।

অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্য:

  • কৃষি প্রযুক্তির ধারণা ব্যাখ্যা করা
  • কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাখ্যা করা
  • কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্যাখ্যা করা
  • সহজলভ্য কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা ব্যাখ্যা করা
  • স্থানীয় উপকরণের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা
  • কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অবদান উপলব্ধি করা

কৃষিকাজ করার জন্য যেসব ধারণা, পদ্ধতি, যন্ত্র বা জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তি। কৃষির যেমন বিভিন্ন শাখা আছে, তেমনি শাখাভিত্তিক প্রযুক্তিও উদ্ভাবন হচ্ছে। কতকগুলো প্রযুক্তি আছে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আবার কতকগুলো প্রযুক্তি আছে যা দশ বছর আগে ছিল, এখন তার জায়গায় এসেছে নতুন প্রযুক্তি। লাঙল-জোয়াল প্রাচীন কৃষিযন্ত্র হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার এখনও চলছে। আবার মালা একটি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত হলেও এর জায়গা এখন দখল করেছে আরও উচ্চ ফলনশীল ধানের অন্যান্য জাত। এভাবেই প্রযুক্তি উদ্ভাবন হতে থাকবে এবং ব্যবহার চলবে।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

কৃষি প্রযুক্তির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।

কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব।

কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব।

সহজলভ্য কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা ব্যাখ্যা করতে পারব।

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য ও সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি প্রয়োজনীয় কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করতে পারব।

কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অবদান উপলব্ধি করতে পারব।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও
আগাছা দমন করা
মাটির ঢেলা ভাঙ্গা
মাটি সমতল করা
বীজের অঙ্কুরোদগম সহজ করা
উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

আলী হোসেন শুকনো মৌসুমের গো-খাদ্যের অভাব মেটানোর জন্য বর্ষাকালে কিছু কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করলেন।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

হাসান আলীর জমি থেকে বৃষ্টির পানি নেমে গেলে তার কাদাময় জমিতে চাষ না দিয়ে তিনি ভুট্টা চাষ করলেন।

নিবিড় চাষ
শূন্য চাষে ভুট্টা চাষ
আধুনিক প্রযুক্তিগত চাষ
অবৈজ্ঞানিক চাষ

কৃষি প্রযুক্তির ধারণা (পাঠ-১)

1.1k

পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা আরও বেশি হারে বাড়ছে। বাড়তি মানুষের জন্য বাড়তি খাবার দরকার। আবার অন্যান্য কৃষিপণ্যেরও বেশি দরকার। এই বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য সব সময় মানুষ চিন্তা-ভাবনা করে আসছে। ফলে যুগে যুগে চাষাবাদের জন্য মানুষ বুদ্ধি খাটিয়ে উদ্ভাবন করছে নতুন নতুন কৌশল বা প্রযুক্তি। তা হলে প্রযুক্তি কী? যখন মানুষ কৃষিকাজ শেখেনি তখন তারা পশু-পাখি শিকার করে মাংস খেত। বনজঙ্গল থেকে ফল-মূল কুড়িয়ে খেত। এক সময় তারা দেখল পশু-পাখি শিকার করে ও কুড়ানো ফল, মূলে তাদের ক্ষুধা মেটে না। তারা সমস্যায় পড়ে গেল। হঠাৎ তারা দেখল, মাটিতে বীজ পড়লে চারা বের হয়, গাছ বড় হয়, ফুল ও ফল হয়। আর এই ফল খাওয়া যায়। এভাবে তারা প্রথম প্রযুক্তি হিসেবে কৃষি উদ্ভাবন করল। অর্থাৎ তারা ফসল উৎপাদন শুরু করল। এরপর তারা বনের পশুদেরও পোষ মানিয়ে গৃহে পালনের কৌশল লাভ করল। এতে বোঝা গেল, ফসল উৎপাদন ও পশু পালন কৃষির আদি প্রযুক্তি।

আদি মানুষেরা ফসল উৎপাদন কীভাবে করত? এ জন্য আদি মানুষেরা চোখা কাঠি দিয়ে অল্প জায়গায় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মাটি আলগা করে ফসল ফলাত। তখন এই চোখা কাঠিই ছিল জমি চাষের উপযুক্ত প্রযুক্তি। চোখা কাঠির অল্প জমি চাষে যে ফসল ফলে তাতে মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণ করতে পারতো না। প্রয়োজন হলো এমন এক প্রযুক্তি, যা দ্বারা অধিক জমি চাষ করা যায়। মানুষ গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগল। চিন্তার ফসল হিসাবে উদ্ভাবন হলো কাঠের লাঙল, লোহার লাঙল, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ইত্যাদি।

কৃষি সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও কলাকৌশলকে কৃষি প্রযুক্তি বলা হয়। কৃষি প্রযুক্তির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এর মধ্যে নতুনত্ব থাকবে।
২. কৃষিকাজ সহজ করবে;
৩. অধিক উৎপাদনের নিশ্চয়তা থাকবে:
৪. খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি হবে এবং
৫. সময় কম লাগবে।

কৃষি প্রযুক্তির বিষয়ভিত্তিক প্রকারভেদ

কৃষি এখন শুধু ফসল উৎপাদনের ব্যাপার নয়। শুধু পশু-পাখি পালনও নয়। কয়েকটি উৎপাদন ক্ষেত্র নিয়ে কৃষির বিকাশ ঘটেছে। তেমনি প্রত্যেকটি উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রযুক্তিও বিকাশ লাভ করেছে। ফসল উৎপাদন, পশু-পাখি পালন, মৎস্য চাষ, বনায়ন-এসব বিষয় নিয়েই কৃষি। কৃষির উন্নয়ন অর্থই হচ্ছে এসব বিষয়ের সঠিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সঠিক ব্যবহার। অতএব নিচের ছকে কৃষির বিষয়ভিত্তিক কলাকৌশল বা প্রযুক্তির পরিচয় দেওয়া হলো:

কৃষি বিষয়প্রযুক্তি
ফসল উৎপাদনবিভিন্ন ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাত, লবণ সহনশীল জাত, গোবর সার, জীবাণু সার, রাসায়নিক সার, সার ব্যবহারের মাত্রা, কীটনাশক, কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা, সাথী ফসল, সবুজ সার, পাওয়ার টিলার, লোলিফট পাম্প, গভীর নলকূপ, সেঁউতি, দোন ইত্যাদি।
গৃহপালিত প্রাণী পালনউন্নত জাতের গবাদি পশু, উন্নত জাতের হাঁস-মুরগি, গরু মোটাতাজাকরণ, কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ, একত্রে হাঁস-মাছ-ধান চাষ, হাঁস-মুরগির সুষম খাদ্য, উন্নত পদ্ধতিতে বাচ্চা উৎপাদন, উন্নত পদ্ধতিতে ডিম সংরক্ষণ, পশু-পাখির রোগ দমন ইত্যাদি।
মৎস্য চাষখাঁচায় মাছ চাষ, মাছ ধরার বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন: পলো, জাল, বড়শি, পুকুরের পানি শোধন, তেলাপিয়া ও নাইলোটিকার চাষ, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি।
বনায়নসামাজিক বনায়ন, কৃষিবনায়ন, বৃক্ষ ও মাঠ ফসল চাষ পদ্ধতি, বনজ ও ফলদ উদ্ভিদ চাষ পদ্ধতি, বৃক্ষ ও গো-খাদ্য চাষ পদ্ধতি, চারা উৎপাদন পদ্ধতি ইত্যাদি।
কাজ: বিষয়ভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তিগুলো পোস্টার পেপারে উপস্থাপন কর।
Content added || updated By

কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার (পাঠ-২)

4.6k

কৃষি প্রযুক্তি কৃষি কার্যক্রমকে অনেক সহজ করেছে। তাই কৃষি এখন লাভজনক পেশা। বর্তমানে কৃষকেরা দেশি লাঙলের পরিবর্তে কলের লাঙল দিয়ে জমি চাষ করছেন। এতে কৃষকের অর্থ, সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হচ্ছে। খাদ্যঘাটতি বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা, উচ্চ ফলনশীল ধানের আবাদ করে কৃষকেরা এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছেন। এছাড়া কৃষির কর্মকাণ্ডের জন্যই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটেছে যেমন: জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য জৈব সার, রাসায়নিক সার ও সবুজ সার ব্যবহার করা হচ্ছে। বীজ বপন, ফসল কাটা, ফসল মাড়াই-ঝাড়াই এর জন্য হস্ত ও শক্তি চালিত বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে কৃষকেরা কৃষিকাজ অনেক সহজে করতে পারছেন।

কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক। কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্রে আবহমানকাল ধরেই কৃষকেরা কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছেন। দিন দিন কৃষকদের সমস্যা জটিল হচ্ছে আর কৃষি প্রযুক্তিগুলোও আধুনিক হচ্ছে। যেমন: কৃষকেরা জমি চাষে দেশি লাঙল ব্যবহার করেন। কিন্তু ইদানীং বেশিরভাগ কৃষকই দেশি কাঠের লাঙলের পরিবর্তে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ব্যবহার করছেন। নিচে আরও কায়েকটি কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখ করা হলো:

১. বসতবাড়িতে বৃক্ষরোপণ প্রযুক্তি:
বসতবাড়ির চারপাশে সবাই বৃক্ষরোপণ করে। কিন্তু বসতবাড়ির কোন স্থানে কোন বৃক্ষটি রোপণ করা দরকার, তা অনেকেই জানেন না। বসতবাড়িতে বৃক্ষরোপণের জন্য কতকগুলো নিয়ম মেনে চলতে হয়। এসকল নিয়মাবলি মেনে বসতবাড়িতে বৃক্ষরোপণ করলে বাড়িতে পর্যাপ্ত আলোবাতাস পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে আমরা ঘষ্ঠ অধ্যায়ে বিস্তারিত জানতে পারব।

২. শূন্য চাষে ভুট্টা চাষ: জমি চাষ না করেও ভুট্টা চাষ করা যায়। বর্ষার পানি নেমে গেলে জমি কাদাময় থাকে। সেই জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণ করলে ভালো ফলন হয়। এতে অর্থ আয় হয় এবং শ্রম কম লাগে।

৩. মাটির হাঁড়িতে ডিম সংরক্ষণ: সাধারণত ডিম ৫-১০ দিনের বেশি ভালো থাকে না। ঘরের মেঝেতে গর্ত করে সেই গর্তে হাঁড়ি বসিয়ে ডিম রাখা হয়। গর্তে হাঁড়ির চারদিকে কাঠ কয়লা রেখে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে ডিম ঠান্ডা থাকে এবং ২০-২৫ দিন ডিম ভালো থাকে।

কাজ: 'বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই' এ সম্পর্কে দলগত আলোচনা করে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: মাটির হাঁড়িতে ডিম সংরক্ষণ, শূন্য চাষে ভুট্টা চাষ, বসতবাড়িতে বৃক্ষরোপণ ।

Content added By

কৃষি যন্ত্রপাতির ধারণা (পাঠ-৩)

1.4k

কৃষিকাজ একটি কারিগরি কাজ। কৃষির অধিকাংশ কাজই যন্ত্রের সাহায্যে করতে হয়। কৃষিকাজ একক কোনো কাজ নয়। এটা একটা প্রক্রিয়া, অনেকগুলো কাজের সমাহার। একটা কাজের সাথে আরেকটা কাজের ধারাবাহিকতা আছে। যেমন: জমি চাষ কৃষিকাজের শুরু আর ফসল মাড়াই-ঝাড়াই করে গোলাজাত করা কৃষিকাজের শেষ। জমি চাষ থেকে ফসল গোলাজাত পর্যন্ত সব কাজই যন্ত্রনির্ভর। কৃষিকাজ সম্পাদন করার জন্য যেসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তা-ই হচ্ছে কৃষি যন্ত্রপাতি।

বাংলাদেশের একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে জমির পরিমাণ কমে আসছে। অল্প জমি থেকে বেশি পরিমাণ ফসল উৎপাদন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ জয়ের জন্য সঠিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার দরকার। শুধু ভালো বীজ, সার, পানি বা ঔষধ ব্যবহারই ফসল উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতিরও দরকার। কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার যত সঠিক হবে, ফসল উৎপাদনও তত ভালো হবে।

জমিতে ফসল জন্মাতে যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুধু এখন নয়, প্রাচীন যুগেও ছিল। তখন কাঠের, হাড়ের বা পাথরের চোখা যন্ত্রের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে আগাছা পরিষ্কার করে ফসলের বীজ বপন হতো। এরপর ক্রমান্বয়ে মানুষ ফসল উৎপাদনের কাজে গরু, মহিষ, ঘোড়া ও যান্ত্রিকশক্তি ব্যবহার করতে লাগল। কৃষিকাজ ভেদে এবং ফসল ভেদে যন্ত্রপাতির ব্যবহারও ভিন্ন ভিন্ন।
ফসল উৎপাদনের কৃষিকাজগুলো হলো: জমি চাষ, বীজ বপন, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, পোকামাকড় ও রোগ দমন, পানিসেচ দেওয়া, ফসল তোলা, মাড়াই-ঝাড়াই করা, শুকানো ও গোলাজাত করা। প্রত্যেকটি কাজের সাথেই যন্ত্রের ব্যবহার আছে।
যেসব যন্ত্র দ্বারা জমি চাষ, বীজ বপন, আগাছা দমন, পোকামাকড় দমন, পানি সেচ দেওয়া, ফসল তোলা, মাড়াই-ঝাড়াই করা হয় সেগুলোই কৃষি যন্ত্রপাতি। কৃষি যন্ত্রপাতিগুলোর কিছু হস্তচালিত, আর কিছু শক্তিচালিত।

কাজ:

১. তোমার এলাকায় যে কৃষিকাজ হয় তা লক্ষ কর এবং কাজগুলোর তালিকা তৈরি কর। অতঃপর তোমার পাঠে উল্লিখিত কাজগুলোর সাথে মিলাও।
২. কোন কাজের জন্য কোন যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়, তার একটি তালিকা তৈরি কর এবং উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: কৃষি যন্ত্রপাতি, হস্তচালিত কৃষি যন্ত্রপাতি, শক্তিচালিত যন্ত্রপাতি।

Content added || updated By

হস্তচালিত উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার (পাঠ-৪)

1.9k

হস্তচালিত কৃষি যন্ত্রপাতিগুলোকে কালক্রমে উন্নত করা হয়। নিচে হস্তচালিত উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির কয়েকটির ব্যবহার উল্লেখ করা হলো:

বারি লাঙল

পুরো জমি প্রস্তুত করার জন্য দেশি লাঙলের চেয়ে অর্ধেক সময়ের প্রয়োজন হয় এবং প্রথম চাষে কোনো জমি চাষ ছাড়া থাকে না। এর সুবিধা:
১। বারি লাঙল মাটি কেটে উল্টে দেয়;
২। চাষের গভীরতা ও প্রশস্ততা দেশি লাঙলের চেয়ে বেশি;
৩। শুকনা ও ভেজা উভয় প্রকার জমি চাষ করা যায়।

মোল্ড বোর্ড লাঙল

মোল্ড বোর্ড লাঙল দেশি লাঙলের চেয়ে অধিকতর কার্যকর। এর সুবিধা:
১। এই লাঙলের সকল অংশই লোহার তৈরি;
২। এই লাঙল জমির মাটিকে আয়তাকার টুকরা করে চাষ করে এবং উল্টে দেয়।

বারি বীজ বপন যন্ত্র

এটি একটি হাতে চালিত বীজ বপন যন্ত্র। এর সুবিধা:
১। বীজ ঠিক দূরত্বে ও গভীরতায় বপন করা যায়;
২। এর দ্বারা বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়; এবং
৩। বীজের পরিমাণ কম লাগে।

ঔষধ ছিটানো যন্ত্র: ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার

স্প্রেয়ার ফসলের রোগ ও পোকা দমনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এতে পানি মিশ্রিত ঔষধ ভর্তি করে ট্রিগারের সাহায্যে নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিটানো হয়। স্প্রেয়ারের প্রধান প্রধান অংশ হচ্ছে (১) নজল (২) ট্রিগার (৩) পাম্প করার বাল্ব (৪) ব্যারেল (৫) ঔষধ ছিটানোর নল।

প্যাডেল থ্রেসার

এটি একটি উন্নত হস্তচালিত ধান বা গম মাড়াই যন্ত্র। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে: টাইনযুক্ত একটি ড্রাম, ড্রামের সাথে যুক্ত একটি প্যাডেল। প্যাডেলের সাহায্যে ড্রামটিতে ঘূর্ণন সৃষ্টি করা হয় এবং যাতে ফসলের শীষ রাখলে টাইনের আঘাতে শস্য মাড়াই হয়। এটি ধান বা গম মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি করা হয়।

বারি পাম্প

বারি পাম্প একটি লোলিফট পাম্প। স্থানীয়ভাবে তৈরি করা যায়। এটি একটি আধুনিক সেচ প্রযুক্তি। এর সুবিধা:
১। অনেক বেশি পানি উঠানো যায়;
২। এটা দিয়ে মাটির নিচ এবং উপর থেকে পানি উঠানো যায়;

কাজ: তোমার গ্রামের বাড়িতে যাও। দেখ হস্তচালিত উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতিগুলো কৃষকেরা ব্যবহার করছেন কি না। যদি করেন, তবে এগুলো ব্যবহারের সুবিধাগুলো তোমার খাতায় লেখ।

নতুন শব্দ: বারি লাঙল, মোল্ড বোর্ড লাঙল, বারি বীজ বপন যন্ত্র, প্যাডেল থ্রেসার।

Content added By

শক্তিচালিত কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার (পাঠ-৫)

1.8k

কৃষিকাজকে আরও সহজ করার জন্য শক্তিচালিত নানান কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। নিচে কয়েকটি যন্ত্রপাতির ব্যবহার উল্লেখ করা হলো:

পাওয়ার টিলার

এর উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে ঘূর্ণি লাঙল। চাষের সময় লাঙলটি প্রচণ্ড গতিতে ঘোরে। আর তাতে গভীরভাবে জমি চাষ হয়। এতে মাটি ঝুরঝুরে হয় ও আগাছা ধ্বংস হয়। ঘূর্ণি লাঙল চালাতে সুবিধা হলো, এর সাথে চাকতি বা ফালি লাঙল ও রোটারি লাঙল ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। পাওয়ার টিলার দ্বারা দ্রুত ও গভীরভাবে জমি চাষ করা হয়।

বারি শস্য ঝাড়াই যন্ত্র

স্থানীয়ভাবে এটি তৈরি করা যায়। বারি শস্য ঝাড়াই যন্ত্র ব্যবহারে নিম্নোক্ত সুবিধাগুলো পাওয়া যায়:
১। ঘরের ভিতর খারাপ আবহাওয়ায় ব্যবহার করা যায়;
২। অল্প সময়ে ও অল্প খরচে ঝাড়াই ও পরিষ্কার করা যায়;
৩। এটা চালানো সহজ।

সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প

এটি শক্তিচালিত সেচযন্ত্র। এর সাহায্যে লোলিফট পাম্প, অগভীর নলকূপ ও গভীর নলকূপ চালানো হয়। লোলিফট পাম্প দ্বারা নদী বা খাল-বিল হতে আর অগভীর বা গভীর নলকূপ দ্বারা মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন করে ফসলের মাঠে সেচ দেওয়া হয়।

সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের সুবিধা

১। সহজে পানি তুলে সেচ দেওয়া যায়;
২। অশ্বশক্তির মাত্রায় পানি উঠে;
৩। প্রয়োজন অনুযায়ী চালানো যায়।

বারি শস্য মাড়াই যন্ত্র

বারি শস্য মাড়াই যন্ত্র একটি আধুনিক মাড়াই প্রযুক্তি। এর দ্বারা বিভিন্ন রকমের ফসল মাড়াই করা যায়। এর ক্ষমতা প্যাডেল প্রেসারের চেয়ে বেশি। এর সুবিধা-

১। বারি শস্য মাড়াই যন্ত্র দিয়ে ধান, গম ও ডাল মাড়াই করা যায়;
২। কম আর্দ্রতার ফসল হলে যন্ত্রটি ভালো কাজ করে।

কাজ: কৃষকেরা যেসব শক্তিচালিত কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন, এর একটা তালিকা তৈরি কর। কোন কোন যন্ত্রপাতির নাম এই পাঠে উল্লেখ করা হয়নি তা লেখ।

নতুন শব্দ: পাওয়ার টিলার, বারি শস্য ঝাড়াই যন্ত্র, বারি শস্য মাড়াই যন্ত্র, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প।

Content added || updated By

ভালো বীজ বাছাইকরণ (পাঠ-৬)

1.4k

ভালো বীজে ভালো ফসল অর্থাৎ গুণগত মানসম্পন্ন বীজ থেকেই ভালো ফসল জন্মায়। প্রবাদ আছে যে
'সুবংশে সুসন্তান সুধীজনে কয়
ভালো বীজে ভালো ফসল জানিবে নিশ্চয়।'
ফসল উৎপাদনে ভালো বীজের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক সময় ভালো বা উন্নত জাতের বীজ হলেও নানা কারণে বীজ ভালো হয় না। বীজে অনেক কিছু থাকতে পারে, যা উন্নত জাতের বীজকেও নির্গুণ করে দেয়।

ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য
১। অন্য জাতের মিশ্রণমুক্ত থাকতে হবে।
২। বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট হবে।
৩। বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
৪। বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না।
৫। ইট, পাথরের কণা ও আগাছা থেকে বীজ মুক্ত হবে।
৬। বীজ অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কম পক্ষে ৮০ ভাগ হবে।

ভালো বীজ পেতে হলে নীরোগ ও পোকামুক্ত জমি হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ভালো করে ফসল কাটার পর পরিচ্ছন্নভাবে মাড়াই-ঝাড়াই করে বীজকে অন্যজাতের বীজ, ইট-পাথরকণা, আগাছার বীজ, চিটা ইত্যাদি থেকে মুক্ত করতে হবে। তারপরও বীজে ভেজাল থাকতে পারে। তাই বীজ বাছাই করা একান্ত প্রয়োজন।

বীজ বাছাইকরণ পদ্ধতি

নিম্নলিখিতভাবে বীজ বাছাই করা যায়
ক) বীজ বাছাইয়ের উপকরণ নির্বাচন
১. ১টি চিমটা, ১টি আতশ কাচ, ১ তা সাদা কাগজ ও ১টি ছোট নিক্তি
২. নির্দিষ্ট ফসলের বীজ
খ) বীজের পরিমাণ
১. ছোট বীজ ১০ গ্রাম
২. মাঝারি বীজ ৫০ গ্রাম
৩. ধান বা গম আকারের বীজ ১০০ গ্রাম
গ) কাজের ধাপ
১. ১০০ গ্রাম ধানের বীজ গুণে নাও।
২. সাদা কাগজে ধানের বীজগুলো রাখ।
৩. বীজগুলো হতে নিম্নলিখিত বস্তুগুলো অপসারণ কর

  • অন্য জাতের বীজ
  • ভাঙা বা পোকা খাওয়া বীজ
  • অপুষ্ট বীজ
  • আগাছার বীজ
  • জড় পদার্থ

৪. এখন বাছাইকৃত বীজ ও অপসারিত বস্তু আলাদাভাবে ওজন কর এবং বাছাইকৃত বীজের শতকরা হার বের কর।

৫. সূত্র: বাছাইকৃত বীজের শতকরা হার= মোট বীজের ওজন অপসারিত বস্তুর ওজন/মোট বীজের ওজন × ১০০

বাছাইকৃত বীজের শতকরা হার যত বেশি হবে বীজ তত ভালো হবে, অর্থাৎ বীজ তত বিশুদ্ধ হবে। এভাবে আমরা বীজের বিশুদ্ধতার হার নির্ণয় করে ভালো বীজ চিনতে পারি।
নতুন শব্দ: বীজ বাছাইকরণ, বীজের আর্দ্রতা, বীজ বাছাই উপকরণ

Content added By

কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ (পাঠ-৭)

1.2k

শুকনা মৌসুমে গো-খাদ্যের অভাব ঘটে। তাই বর্ষাকালে যখন ঘাস প্রচুর জন্মে, তখনই শুকনা মৌসুমের জন্য গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হয়। এ জন্য কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ পদ্ধতিকে সাইলেজ বলা হয়। এতে ঘাসের পুষ্টিমানের কোনো পরিবর্তন হয় না। যে নির্দিষ্ট স্থানে বা গর্তে ঘাস সংরক্ষণ করা হয়, তাকে বলা হয় সাইলোপিট। সাইলোপিটে বায়ুরোধক অবস্থা তৈরি করতে হয়। বায়ুরোধক অবস্থায় ঘাসে ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয়। এই ল্যাকটিক এসিড কাঁচা ঘাস সংরক্ষণে কাজ করে।
কাঁচা ঘাসের গুরুত্ব অনেক। শীতকালে অনেক স্থানেই ঘাসের অভাব দেখা দেয়। তখন পশুকে মানসম্মত খাবার প্রদান কষ্টকর হয়। তাই বর্ষাকালে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করে গবাদি পশুর খাদ্যের অভাব পূরণ করা যায়। সাইলেজের গুণাগুণ কাঁচা ঘাসের মতো। কাঁচা ঘাসের গুণসম্পন্ন সাইলেজে গবাদি পশুর দুধ উৎপাদন বাড়ে।

যেসব ঘাসে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, সেসব ঘাস সাইলেজের জন্য ভালো। কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ বা সাইলেজের জন্য উন্নত জাতের কাঁচা ঘাস যেমন: প্যারা, নেপিয়ার, জার্মান, গিনি, ভুট্টা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। তবে ভুট্টার সাইলেজ অনেক ভালো। কাঁচা ধানের খড় ও কাঁচা ঘাস ১:৫ অনুপাতে মিশিরে সাইলেজ তৈরি করা যেতে পারে।

সাইলোপিট তৈরির স্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন স্থানে সাইলোপিট তৈরি করতে হবে, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না এবং ঘাসের অভাব হয় না। সাইলোপিট কাঁচা-পাকা দুই-ই হতে পারে। নিচে কাঁচা পিটে সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের জন্য প্রথমেই শুকনা ও উঁচু জায়গা নির্ধারণ করতে হবে।
২. নির্ধারিত স্থানে ১ মিটার গভীর, ১ মিটার প্রস্থ এবং ১ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গর্ত তৈরি করতে হবে।
৩. ১ ঘন মিটার একটি গর্তে প্রায় ৭০০ কেজি কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করা যায়।
৪. কাঁচা ঘাসের শতকরা ৩-৪ ভাগ চিটাগুড় মেপে একটি চাড়িতে নিতে হবে।
৫. এরপর চিটাগুড়ের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশাতে হবে।
৬. গর্তের তলায় পলিথিন বিছালে ভালো হয়। পলিথিন না বিছালে পুরু করে খড় বিছাতে হবে এবং চারপাশে ঘাস সাজানোর সাথে সাথে খড়ের আস্তরণ দিতে হবে।
৭. এরপর ধাপে ধাপে ৭০০ কেজি কাঁচা ঘাস দিয়ে ২০-৩০ কেজি শুকনা খড় দিতে হবে।
৮. প্রতিটি ঘাসের ধাপে ১৫ থেকে ২০ কেজি চিটাগুড়-পানির মিশ্রণ সমভাবে ছিটাতে হবে।
৯. এভাবে ধাপে ধাপে ঘাস ও খড় বিছিয়ে ভালোভাবে পা দিয়ে পাড়াতে হবে, বাতে বাতাস বেরিয়ে যায়।
১০. ঘাস সাজানো শেষ হলে খড়ের আস্তরণ দিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
১১. সর্বশেষে পলিথিনের উপর ৭.৫ ১০ সেমি মাটি পুরু করে দিতে হবে।

আকালের সময় (অক্টোবর-নভেম্বর) সংরক্ষিত কাঁচা ঘাস বা সাইলেজ গরুকে খেতে দিতে হবে। পিটের একদিক থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ঘাস বের করতে হবে। এর স্বাদ ও গন্ধ ভালো হওয়ায় গবাদি পশুরা এভাবে সংরক্ষিত কাঁচা ঘাস খেতে খুবই পছন্দ করে।

কাজ: উল্লিখিত বর্ণনা মোতাবেক কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের জন্য তোমরা দলবদ্ধ হয়ে ৫০ সেমি গভীর, ৫০ সে মি প্রস্থ এবং ৫০ সে মি দৈর্ঘ্যের একটি গর্ত তৈরি কর। গর্তে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ কর।

নতুন শব্দ: সাইলেজ, কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ, সাইলোপিট, চিটাগুড়, কার্বোহাইড্রেট, নেপিয়ার, প্যারা, গিনি।

Content added By

খাঁচায় মাছ চাষ (পাঠ- ৮)

1.2k

দেশের জনসংখ্যা বাড়ার কারণে মাছের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। মাছের চাহিদা পূরণের জন্য মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক পরামর্শের মধ্যে খাঁচায় মাছের চাষ একটি। বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। খাঁচায় মাছের চাষ আমাদের দেশে নতুন হলেও উত্তর আমেরিকায় অনেক আগে থেকেই এর ব্যবহার চলে এসেছে। ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া প্রভৃতি দেশেও এর প্রচলন আছে।

বাংলাদেশে খাঁচায় মাছ চাষ মৎস্য বিশেষজ্ঞদের একটি অনুমোদিত প্রযুক্তি। যেসব এলাকায় নদী-নালা, হাওর, খাল-বিল আছে সেসব এলাকার কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারেন। নদীতে বা বিলে বা যে কোনো উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচা বানিয়ে পুকুরের আকার দেওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাঁচায় মাছের চাষ করে একদিকে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানো যায়, অপরদিকে এই মাছ বাজারে বিক্রি করে অর্থ লাভ করা যায়।

খাঁচা তৈরির প্রথমেই চারদিকে চারটি খুঁটি দিয়ে এবং আড়াআড়ি বাঁশ বেঁধে খাঁচার আয়তাকার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খাঁচার কাঠামোর চারদিকে এবং উপরে-নিচে জাল দ্বারা আবৃত করে খাঁচা তৈরি করা হয়। পরে খাঁচাটি তুলে নদীতে বা হাওরে নিয়ে মাটিতে শক্ত করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে এর সাথে বেঁধে দিতে হয়। খাঁচার উপরের দিকে মাছের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়। খাঁচা ছোট, মাঝারি ও বড় হতে পারে। ছোট আকারের খাঁচার মাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্য ৩ মিটার, প্রস্থ ২ মিটার এবং গভীরতা ২ মিটার। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মাছ চাষের জন্য খাঁচার আকার এর চেয়েও দ্বিগুণ বা তিনগুণ আকারের হতে পারে। মাছের খাঁচা যে শুধু আয়তাকার হবে তা নয়। আবার গোলাকারও হতে পারে। লম্বা বাঁশের ফ্রেম বানিয়ে এর সাথে ঘন ছিদ্রযুক্ত নেট বা জাল লাগিয়ে অনেকগুলো খোপের মাছের খাঁচা তৈরি করা যায়। বিভিন্ন খোপে বিভিন্ন মাছের চাষ করা যেতে পারে।

স্রোতহীন বা কম স্রোতের পানিতে খাঁচা বসাতে হবে। বেশি স্রোতে খাঁচার ব্যবস্থাপনা কঠিন ও ব্যয়সাধ্য। খাঁচা খুঁটি বা প্লাটফর্ম দ্বারা বসাতে হবে। খুঁটির চেয়ে প্লাটফর্ম বেশি ভালো। তেলের ড্রাম দ্বারা প্লাটফর্ম তৈরি করা যায়। প্লাটফর্ম ব্যবহার করলে যেকোনো গভীরতায় খাঁচা বসানো যায়।

খাঁচায় মাছের চাষ হলো নিবিড় চাষ। এ জন্য সুষম খাদ্য অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশে খাঁচায় তেলাপিয়া, নাইলোটিকা ও কার্প জাতীয় মাছ চাষ করা যায়। খাঁচা বড় হলে পাঙ্গাস মাছও চাষ করা যায়। তবে এদের মাঝে তেলাপিয়ার চাষ লাভজনক। তেলাপিয়া চাষ করতে হলে প্রতি ১ ঘনমিটার খাঁচার ২০০-৩০০ পোনা ছাড়তে হবে। গমের ভুসি ও ফিশমিল যথাক্রমে ৮৫% ও ১৫% হারে মিশিয়ে মাছকে খাদ্য হিসাবে দিতে হবে। প্রতিদিন খাদ্যের পরিমাণ থাকবে মাছের দেহের ওজনের ৬-৭%। খাঁচার তলার সবটুকু অংশ পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে তাতে খাদ্য দিতে হবে।

খাঁচার জাল পলি ও শেওলায় ভর্তি হয়ে যেতে পারে। এমন হলে যথাসময়ে ব্রাশ বা বাঁশের শলার ঝাঁটা দিয়ে জাল পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি ৩ মাস অন্তর একটি ১ ঘন মিটার খাঁচা হতে ২০ কেজি তেলাপিয়া উৎপাদন করা সম্ভব।

নতুন শব্দ : খাঁচায় মাছ চাষ, মৎস্য বিশেষজ্ঞ, প্লাটফর্ম, ফিশমিল।

Content added By

ফসল উৎপাদনের স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি ও ব্যবহার (পাঠ-৯)

1.2k

স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি সবার কাছেই পরিচিত। প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়িতেই এই স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতিগুলো দেখা যায়। স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে জমি চাষের যন্ত্রপাতি যেমন: দেশি লাঙল, জোয়াল, মই ও কোদাল প্রধান। পশুপালন যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে মুরগির খাবার পাত্র ও পানির পাত্র প্রধান। আবার মাছ ধরার যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে পলো, বড়শি ও জাল প্রধান।

ফসল উৎপাদনের জন্য স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও কোদাল প্রধান। নিচে এগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:
লাঙল: লাঙল দেশি লাঙল হিসাবেই অধিক পরিচিত। একটি কাঠকে বাঁকা করে কাঠের আগায় লোহার একটি ফলক বা ফাল লাগানো হয়। এই ফলকের সাহায্যেই লাঙল মাটি চিরে জমি চষে। লাঙলের উপরের অংশকে বলা হয় হাতল। এই হাতল চেপে ধরেই কৃষকেরা জমিতে লাঙল চালনা করেন।

লাঙলের মধ্যস্থানে একটি ছিদ্র করা হয়। এই ছিদ্রপথে প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি কাঠ যুক্ত করা হয়, যার আগায় ৪-৫টি দাঁত বা খাঁজ কাটা থাকে। এটাকে ঈশ বলা হয়। ঈশের খাঁজে রশি বেঁধে জোয়ালের সাথে লাঙল লাগানো হয়। ঈশ যাতে লাঙলের সাথে ভালোভাবে আবদ্ধ থাকে সেজন্য ছোট কাঠের একটি খিল ব্যবহার করা হয়।

লাঙল ব্যবহারের সুবিধা
১। লাঙল সহজলভ্য;
২। লাঙল তৈরি করা ও পরিচালনা সহজ:
৩। লাঙল ওজনে হালকা বলে বহন করা সহজ।

জোয়াল: জোয়াল হালের গরুর কাঁধে স্থাপন করে লাঙলের সাথে যুক্ত করা হয়। জোয়ালের দুই প্রান্তে দুটি ছিদ্র করা হয়। ছিদ্রপথে ছিদ্রের মাপ অনুযায়ী দুটি শক্ত কাঠি লাগানো হয়। জোয়াল গরুর কাঁধে রেখে কাঠি দুটির সাথে রশি বেঁধে লাঙলের সাথে জোড়া হয়।

জোয়ালের সুবিধা
১। বাঁশ বা কাঠ দিয়ে জোয়াল তৈরি করা যায়;
২। জোয়াল তৈরি করা সহজ;
৩। ওজনে হালকা।

মই: মই প্রধানত বাঁশ বা কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। মোটা একটি বাঁশকে লম্বালম্বি ফালি করে দুই ভাগ করা হয়। অনেক মইয়ে তিনটি ফালি ব্যবহার করা হয়। এক জোড়া গরু হলে লম্বা হবে ৫ ফুট এবং দুই জোড়া গরু হলে লম্বা হবে সাড়ে সাত ফুট। মইয়ের কাজ হলো:

১। মাটির ঢেলা ভাঙা;
২। মাটি সমতল করা;
৩। আগাছা দমন ও আলাদা করা;
৪। বীজের অঙ্কুরোদগম সহজ করা।
কোদাল: কোদাল কৃষিকাজের একটি অতিপরিচিত যন্ত্র। জমির কোনা বা আইল ঘেঁষা ভূমি যেখানে লাঙলের ফলা স্পর্শ করে না তা কোদাল দিয়ে চাষ করা হয়। এছাড়া ছোট ছোট প্লটে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে সবজি চাষ করা হয়। কোদাল দ্বারা গর্ত করে ফলের চারা লাগানো হয়। কোদাল লোহার পাত দ্বারা তৈরি। লোহার পাত মুখের দিকে ২০ সেমি প্রস্থ হয় এবং ২৮ সেমি লম্বা হয়। প্রায় তিন ফুট লম্বা কাঠের হাতল লাগানো হয়।
কোদালের সুবিধা:
১।স্থানীয়ভাবে কামারশালায় তৈরি করা যায়;
২। মাটি আলগা করা, ঢেলা ভাঙ্গা ও আগাছা দমনেও কোদাল ব্যবহার করা যায়।

আঁচড়া বা বিদা: আঁচড়া বা বিদা কাঠ ও বাঁশ বা লোহার খিল দিয়ে তৈরি করা হয়। আঁচড়ার ১.৫ মি. লম্বা একটি দণ্ড থাকে। এই দণ্ডে ১০ সেমি পরপর ছিদ্র থাকে। ছিদ্রপথে বাঁশের বা লোহার খিল লাগানো হয়। এতে হাতল ও ঈশ লাগানো হয়। আঁচড়ার প্রধান কাজ হলো:
১। ফসল পাতলা করা;
২। আগাছা দমন করা;
৩। মাটি আলগা করা।

নিড়ানি: ফসলের জমি হতে আগাছা পরিষ্কার ও মাটি আলগা করার কাজে নিড়ানি ব্যবহার করা হয়। এর আগার দিক অর্ধ-চন্দ্র আকৃতির লোহার পাত দিয়ে তৈরি করা হয়। আর গোড়ার দিকে সরু হয় এবং কাঠের বাঁট লাগানো হয়।

কাজ: তোমাদের বাড়িতে যেসব কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় এর তালিকা তৈরি কর। তৈরি তালিকার সাথে এই পাঠে উল্লিখিত যন্ত্রগুলোর নাম মিলাও।

নতুন শব্দ: লাঙল, জোয়াল, আঁচড়া, নিড়ানি, ঈশ।

Content added || updated By

মাছ ধরার স্থানীয় যন্ত্রপাতি ও ব্যবহার (পাঠ- ১০)

2.2k

স্থানীয়ভাবে মাছ ধরার অনেক যন্ত্রপাতি আছে। তন্মধ্যে জাল, পলো ও বড়শি প্রধান। প্রায় কৃষকের ঘরেই বিভিন্ন রকম জাল, পলো, বড়শি দেখতে পাওয়া যায়।
১। জাল: জাল এদেশের প্রাচীন মাছ ধরার কৌশল। জাল সুতা দ্বারা তৈরি করা হয়। পুকুর, ডোবা, নদী- নালা, খাল-বিল, এমনকি সমুদ্র থেকেও জাল দ্বারা মাছ ধরা হয়। পানিতে জাল পাতলে বা জাল ফেললে জালের ফাঁসে মাছ আটকা পড়ে। কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের জাল ব্যবহার করেন। যেমন: ঝাঁকি জাল, ঠেলা জাল এবং খরা জাল।

ক) ঝাঁকি জাল: ঝাঁকি জালের উপরের প্রান্তে সরু রশি বাঁধা থাকে। জালের নিচের দিকে লোহার ছোট ছোট কাঠি যুক্ত করা হয়, যাতে পানিতে জাল ফেললে তাড়াতাড়ি ডুবে যেতে পারে। মাছ ধরার সময় খাল, পুকুর বা নদীর তীর থেকে রশিটি হাতে রেখে জাল পানিতে ছুড়ে মারা হয়। পরে রশি ধরে টেনে জাল তোলা হয়। জালের নিচে অনেক ধরনের মাছ আটকা পড়ে। পুঁটি, চিংড়ি, কার্প ও নলা মাছ বেশি ধরা পড়ে।

খ) ঠেলা জাল: ঠেলা জাল তিন কোনা। এটাকে তিন কোনা বাঁশের ফ্রেমে আটকানো হয়। ঠেলা জাল দিয়ে সাধারণত ছোট ছোট মাছ ধরা হয়। ঠেলা জালের হাতল ধরে পানিতে নেমে সামনের দিকে নিলে এই জালে পুঁটি, খলিসা, চিংড়ি, বেলে ইত্যাদি মাছ ধরা পড়ে।

গ) খরা জাল: এটি একটি ত্রিভুজাকৃতির জাল যা বাঁশের মাচা বা টং থেকে চালানো হয়। জাল ইংরেজী "V" আকৃতির বাঁশের কাঠামোর মাঝখানে বাঁধা থাকে। জালটি নদী বা বিলে মাছের চলাচলের পথে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর জালের পিছনের দিকে বাঁশের গোড়ায় চাপ দিলে জাল উপরে উঠে আসে। এর পর জালে আটকা পড়া মাছ সংগ্রহ করা হয়।

২। পলো: পলো মাছ ধরার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। এটি বাঁশের শলাকা ও বেত দিয়ে তৈরি। এর নিচের দিকের মুখ গোলাকার ও বড় এবং উপরের দিকের মুখও গোলাকার কিন্তু ছোট। দুই মুখই খোলা থাকে।

পলো উপরের দিকে হাত দিয়ে ধরে অগভীর পানিতে চাপ দিতে হয়। মাছ পলোতে আটকা পড়লে পলোর ভিতরে ছুটাছুটি করতে থাকে। অতঃপর উপরের মুখ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পলোর ভিতর থেকে মাছ ধরা হয়। শোল, গজার ইত্যাদি বড় মাছ পলোতে ধরা পড়ে।

৩। বড়শি: বড়শি লোহার তৈরি। বড়শির জন্য প্রায় ২০০ সেমি লম্বা একটি ছিপ দরকার পড়ে। হাটে-বাজারে এমনকি শহরেও মাছ ধরার জন্য বিশেষ ধরনের ছিপ পাওয়া যায়। ছিপের আগায় সুতার এক প্রান্ত বেঁধে অপর প্রান্ত বড়শির সাথে বাঁধা হয়।

বড়শিতে বিভিন্ন ধরনের টোপ লাগিয়ে পানিতে ফেলা হয়।

মাছ টোপ দেখে খাওয়ার সময় বড়শিতে আটকা পড়ে। তারপর সুতাটি টেনে বড়শি থেকে মাছ সংগ্রহ করা হয়। বড়শি অনেক প্রকারের। ছোট পুঁটি মাছ থেকে শুরু করে বৃহৎ বোয়াল মাছও বড়শিতে আটকা পড়ে।

কাজ: তোমার এলাকাবাসী কী কী যন্ত্র দ্বারা মাছ ধরেন এর একটা তালিকা তৈরি কর।

নতুন শব্দ: ঝাঁকি জাল, ঠেলা জাল, খরা জাল, পলো।

Content added By

অনুশীলনী

1.2k

শূন্যস্থান পূরণ কর

১. কৃষি যন্ত্রপাতি.................কার।
২. পাওয়ার টিলার দ্বারা.......ও..... জমি চাষ করা হয়।
৩. পলো ............... ধরার একটি প্রাচীন পদ্ধতি।

বাম পাশের সাথে ডান পাশের মিলকরণ

বাম পাশডান পাশ

১. লাঙল

২. আগাছা

৩. প্যাডেল থ্রেসার

৪. মাছ

৫. মাটির হাঁড়ি

ডিম সংরক্ষণ।

জাল।

নিড়ানি।

জমি চাষ।

মাড়াই যন্ত্র।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. কৃষি প্রযুক্তি কাকে বলে?
২. পাঁচটি কৃষি যন্ত্রপাতির নাম লেখ।
৩. লাঙল ব্যবহারের সুবিধা লেখ।

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. জমি চাষের জন্য লাঙলের যে ধারাবাহিক পরিবর্তন এসেছে তা বর্ণনা কর।
২. খাঁচায় মাছ চাষ একটি কৃষি প্রযুক্তি-কথাটি ব্যাখ্যা কর।
৩. কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের পদ্ধতি বর্ণনা কর।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কোনটি ফসল মাড়াই যন্ত্র?
ক. পাওয়ার টিলার
খ. প্যাডেল থ্রেসার
গ. ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার
ঘ. সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প

২. ভালো বীজে গজানোর হার কমপক্ষে শতকরা কত ভাগ?
ক. ৫০ ভাগ
খ. ৬০ ভাগ
গ. ৭০ ভাগ
ঘ. ৮০ ভাগ

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও

মমতাজ মিয়া তার দুগ্ধ খামারে সবুজ ঘাসের অভাব মিটানোর জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে সাইলেজ প্রস্তুত করে রাখলেন।
৩. মমতাজ মিয়া কোন ঋতুতে সাইলেজ প্রস্তুত করে রাখলেন?
ক. বর্ষাকাল
খ. শরৎকাল
গ. হেমন্তকাল
ঘ. শীতকাল

৪. সাইলেজ প্রস্তুতের ফলে মমতাজ মিয়ার খামারে-
i. সারা বছর সুষম খাদ্য সরবরাহ হবে
ii. কাঁচা ঘাসের অপচয় রোধ হবে
iii. খামারের খরচ কমে যাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও ii
ঘ. i, ii ও iii

৫. ফসলের পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহৃত কৃষি উপকরণ কোনটি?
ক. নিড়ানি
খ. আঁচড়া
গ. ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার
ঘ. বারিপাম্প

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. কাশিমপুর গ্রাম একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাম। এখানকার কৃষকরা কৃষিকাজে যন্ত্রনির্ভর। তাদের ফসলের ফলন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। কৃষি কর্মকর্তা রাসেল সাহেব পার্শ্ববর্তী হরিপুর গ্রামের কৃষকদের কাশিমপুর গ্রামের মতো আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি হরিপুরের কৃষকদেরকে উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করেন এবং কাশিমপুর গ্রামের কৃষকদের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখাতে নিয়ে যান।
ক. কৃষি প্রযুক্তি কাকে বলে?
খ. আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি ক্ষেত্রে সময়ের অপচয় রোধ করে। ব্যাখ্যা কর।
গ. কাশিমপুর গ্রামের কৃষকদের বেশি ফলন লাভের কারণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. হরিপুর গ্রামের কৃষকদের জন্য রাসেল সাহেবের উদ্যোগটির মূল্যায়ন কর।

২. সচেতন কৃষক রফিক সাহেব ফসল উৎপাদনের জন্য সবসময়ই ভালো গুণসম্পন্ন বাছাইকৃত বীজ ব্যবহার করেন। এ বছর গম চাষের জন্য তিনি কিছু বীজ ক্রয় করেন। বীজগুলো থেকে ১০০ গ্রাম বীজ নিয়ে বাছাই করে তিনি নিম্নের বস্তুগুলো পান:

  • অন্য জাতের বীজ- ৫ গ্রাম।
  • ভাঙা ও পোকাখাওয়া বীজ- ৬ গ্রাম।
  • অপুষ্ট বীজ-৩ গ্রাম।
  • আগাছার বীজ ১ গ্রাম।
  • জড় পদার্থ- ১ গ্রাম।

ক. ভালো বীজের রং কেমন হবে?
খ. বিভিন্ন বস্তুর মিশ্রণ উন্নত জাতের বীজকে নির্গুণ করে দেয়। ব্যাখ্যা কর।
গ. রফিক সাহেব কর্তৃক বাছাইকৃত বীজের শতকরা হার বের কর।
ঘ. অধিক ফসল উৎপাদনে রফিক সাহেবের কাজটি মূল্যায়ন কর।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...